মার্শাল আর্ট শব্দটি শুনলেই যার চেহারা চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তিনি হলেন ব্রুস লি। ১৯৪০ সালের ২৭ নভেম্বর সান ফ্রান্সিসকোর চিনাটাউনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। যদিও তার জন্ম আমেরিকায়, কিন্তু তার শৈশব কেটেছে হংকংয়ে। ছোটবেলা থেকেই ব্রুস ছিলেন বেশ চঞ্চল এবং কিছুটা মারকুটে স্বভাবের। এই স্বভাবের কারণেই তার বাবা তাকে আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর জন্য কুংফু ওস্তাদ ইপ ম্যানের কাছে পাঠান। সেখান থেকেই শুরু হয় তার জীবনের মোড় ঘোরানো এক অধ্যায়।
সংগ্রাম ও শিক্ষা (১:৩০ - ৩:৩০): ১৮ বছর বয়সে ব্রুস লি হংকং থেকে আমেরিকায় ফিরে আসেন। পকেটে ছিল মাত্র ১০০ ডলার, কিন্তু বুকে ছিল অদম্য সাহস। সিয়াটলে তিনি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন শাস্ত্রে পড়াশোনা শুরু করেন। একই সময়ে তিনি নিজের গ্যারেজে মার্শাল আর্ট শেখানো শুরু করেন। তিনি প্রচলিত কুংফুর সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরে নিজের একটি স্টাইল তৈরি করেন, যার নাম দেন 'জিৎ কুনে দো' (Jeet Kune Do)। এটি কেবল একটি লড়াইয়ের পদ্ধতি ছিল না, বরং ছিল জীবনদর্শনের এক সংমিশ্রণ।
হলিউড এবং বর্ণবাদ (৩:৩০ - ৫:৩০): ব্রুস লি-এর স্বপ্ন ছিল হলিউড জয় করা। কিন্তু সেই সময় এশীয় অভিনেতাদের জন্য হলিউডের দরজা ছিল প্রায় বন্ধ। 'দ্য গ্রিন হর্নেট' সিরিজে ক্যাটো চরিত্রে অভিনয় করে তিনি পরিচিতি পেলেও প্রধান চরিত্রে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। বর্ণবাদের শিকার হয়েও তিনি দমে যাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, "সব সময় নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো।" হলিউডে কাজ না পেয়ে তিনি আবার হংকং ফিরে যান এবং সেখানে 'দ্য বিগ বস' ও 'ফিস্ট অফ ফিউরি'র মতো সুপারহিট সিনেমা উপহার দেন।
সাফল্যের শিখর ও এন্টার দ্য ড্রাগন (৫:৩০ - ৮:০০): হংকংয়ের সাফল্যের পর হলিউড তাকে আর উপেক্ষা করতে পারেনি। শুরু হয় তার সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ 'এন্টার দ্য ড্রাগন'-এর শুটিং। এই সিনেমাটি মার্শাল আর্টকে বিশ্বব্যাপী একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। ব্রুস লি কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল মানুষ। তার 'বি ওয়াটার, মাই ফ্রেন্ড' (Be water, my friend) দর্শন আজও কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে কঠোর পরিশ্রম এবং ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব।
রহস্যময় মৃত্যু ও উত্তরাধিকার (৮:০০ - ১০:০০): সাফল্যের চরম শিখরে থাকা অবস্থায় ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই মাত্র ৩২ বছর বয়সে এই কিংবদন্তির রহস্যময় মৃত্যু ঘটে। 'এন্টার দ্য ড্রাগন' মুক্তির মাত্র কয়েকদিন আগে তার চলে যাওয়া সারা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়। তার মৃত্যু নিয়ে আজও নানা বিতর্ক ও জল্পনা থাকলেও, তার রেখে যাওয়া কাজ তাকে অমর করে রেখেছে। ব্রুস লি শিখিয়েছেন কীভাবে নিজের সীমানাকে ছাড়িয়ে যেতে হয়। তিনি চলে গেছেন ঠিকই, কিন্তু ড্রাগনের সেই গর্জন আজও মানুষের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হয়।