শুক্রবার, ৬ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** একের পর এক রেকর্ড ভাঙছেন ‘টক্সিক’ যশ – বক্স অফিসে দানবীয় প্রত্যাবর্তনের সংকেত! *** ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : জীবন, রাজনীতি ও সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাপ্রবাহ *** আ ন ম এহসানুল হক মিলন: জীবন, রাজনীতি ও কৃতিত্ব *** হানিয়া আমিরের বিয়ে কি হবে? *** মুখে গোলাপ নিয়ে নাচ! ক্যাটরিনার রাগ ভাঙাতে সালমানের সেই ‘পাগলামি’ আজও ভাইরাল *** বরফ গলে নদীতে মিশছে ব্যাকটেরিয়া, বিজ্ঞানীদের সতর্কবাণী *** শীতের আমেজে একদিনেই ঘুরে আসুন রামগড় চা বাগান *** একাধিক প্রেম করা কোনো অন্যায় নয়: স্বস্তিকা *** কাছের বন্ধুরাও নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে ছবি মুছে ফেলেন কেন? *** বিবাহবার্ষিকীর খবরকে ‘ভুয়া’ বললেন অভিনেতা তাহসান খান

বিড়ালের বাবা

আবু হুরায়রার সংক্ষিপ্ত জীবনী

হামিদুর রহমান বাপ্পা

হামিদুর রহমান বাপ্পা

প্রকাশ: ০৬:৪২ অপরাহ্ন, ৬ই ডিসেম্বর ২০২৫ | ৬ই ডিসেম্বর ২০২৫
আবু হুরায়রার সংক্ষিপ্ত জীবনী
আবু হুরায়রার সংক্ষিপ্ত জীবনী

আজকের আলোচনায় আমরা জানব ইসলামের একজন মহান সাহাবী—আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)–এর জীবন এবং তার সাথে জড়িত এক মমতাময়ী ঘটনা, যা তাকে চিরতরে পরিচিত করে দিয়েছে “বিড়ালের বাবা” নামে।


১️⃣ আবু হুরায়রার সংক্ষিপ্ত জীবনী

আবু হুরায়রা (রা.)–এর প্রকৃত নাম ছিল আবদুর রহমান ইবনে সাখর দাউসি। তিনি ইয়েমেনের দাউস গোত্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জীবনের শুরুটা ছিল খুবই সাধারণ, আর্থিকভাবে দুর্বল। কিন্তু হৃদয়ে ছিল অদম্য জ্ঞানপিপাসা ও আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি গভীর ভালোবাসা।

ইসলাম গ্রহণের পর তিনি মক্কা থেকে মদিনায় এসে নবী করিম ﷺ–এর সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় থাকতে শুরু করেন। দরিদ্র হওয়ায় তার তেমন কোনো worldly দায়িত্ব ছিল না; ফলে তিনি প্রায় সবসময় মসজিদে নববীতে থাকতেন এবং নবী ﷺ–এর প্রতিটি কথা মনোযোগ দিয়ে শিখতেন।

জ্ঞান অর্জনের এই অব্যাহত প্রচেষ্টার জন্যই তিনি পরবর্তীতে ৫,০০০-এর বেশি হাদিস বর্ণনা করে ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদিস বর্ণনাকারী হয়ে ওঠেন।


২️⃣ কেন তাকে “বিড়ালের বাবা” বলা হয়

আবু হুরায়রা (রা.)–এর জীবনে একটি ছোট্ট কিন্তু অত্যন্ত সুন্দর ঘটনা রয়েছে, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। একদিন তিনি একটি ছোট বিড়ালছানা পান—অসহায়, ক্ষুদ্র একটি জীব। তিনি সেটাকে কোলে নেন, খাবার দেন, আদর করে কাছে রাখেন। বিড়ালটি তাকে এত ভালোবাসত যে সবসময় তার সাথে লেগে থাকত—কখনো তার কাপড়ের ভাঁজে, কখনো হাতে, কখনো কাঁধে।

সাথে থাকা সাহাবীরা এই দৃশ্য দেখে মমতা করে তাকে ডাকতে শুরু করলেন—
“আবু হিরা”—অর্থাৎ “বিড়ালের বাবা”
পরবর্তীতে এই উপনামটাই স্থায়ী হয়ে গেল আবু হুরায়রা নামে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ–ও এই নাম শুনে হাসিমুখে তা গ্রহণ করেছিলেন। এর পর থেকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাকে এই নামেই জানে।


৩️⃣ বিড়ালের গল্পটি কেন এত আলোচিত

এই গল্পের সৌন্দর্য শুধু একটি নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গল্পটি আমাদের শেখায়—
প্রাণীর প্রতি দয়া কোনো ছোট কাজ নয়।
ইসলাম শুধু মানুষের প্রতি নয়, পশুপাখির প্রতিও ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়।
আর আবু হুরায়রা (রা.)–এর জীবন সেই শিক্ষার জীবন্ত উদাহরণ।

তার বর্ণনা অনুযায়ী, বিড়াল অপবিত্র নয়। এমনকি বিড়াল পানি পান করলে সেই পানি অপবিত্র হয়ে যায় না—এমন হাদিসও তার মাধ্যমেই মানুষের কাছে এসেছে। তাই আজও মুসলিম বিশ্বে বিড়ালকে ভালোবাসার একটি আলাদা প্রেক্ষাপট রয়েছে।


৪️⃣ সমাপ্তি

আবু হুরায়রা (রা.)–এর জীবন আমাদের শিখায় —
সত্যনিষ্ঠা, জ্ঞানলাভের আকাঙ্ক্ষা, নবী ﷺ–এর প্রতি অটুট ভালোবাসা, এবং ছোট্ট একটি প্রাণীর প্রতিও মমতা—
এসবই একটি মানুষের চরিত্রকে মহান করে তোলে।

হাদিস বর্ণনার এই মহৎ ব্যক্তিত্ব এবং তার বিড়ালের গল্প আজও মানুষের হৃদয়ে মানবতা, করুণা ও দয়ার প্রতীক হয়ে আছে।

শেয়ার করুন: