হামিদুর রহমান বাপ্পা যোগাযোগঃ 01511-228988 |
বাংলাদেশে অপহরণ ও ধর্ষণ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর বিচার প্রধানত
১. অপহরণ (Kidnapping and Abduction)
দণ্ডবিধি অনুযায়ী সংজ্ঞা (ধারা ৩৫৯-৩৬২): কিডন্যাপিং: কোনো ব্যক্তিকে তার আইনগত অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বা বাংলাদেশ থেকে জোরপূর্বক বাইরে নিয়ে যাওয়া।অ্যাবডাকশন (Abduction): বলপ্রয়োগ বা প্রলোভনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া।[1 ]
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধান (ধারা ৭ ও ৮):
২. ধর্ষণ (Rape)
সংজ্ঞা (ধারা ৯-এর ব্যাখ্যা): কোনো ব্যক্তি বিবাহবন্ধন ব্যতীত ১৬ বছরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সম্মতি ছাড়া, বা ভীতি প্রদর্শন করে সম্মতি আদায় করে, অথবা ১৬ বছরের কম বয়সের কোনো শিশুর সাথে সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌনসঙ্গম করলে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে।শাস্তি (ধারা ৯): সাধারণ ধর্ষণ (৯/১): শাস্তিমৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড (২০২০ সালের সংশোধনী অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে)।[5 ]ধর্ষণের ফলে মৃত্যু (৯/২): যদি ধর্ষণের কারণে ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটে, তবে অপরাধীর শাস্তিমৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অনধিক ২০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড।[1 ][5 ]দলবদ্ধ ধর্ষণ (৯/৩): একাধিক ব্যক্তি মিলে ধর্ষণ করলে এবং তাতে ভুক্তভোগীর মৃত্যু বা জখম হলে, দলের প্রত্যেকের শাস্তিমৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ।[1 ][5 ][7 ]ধর্ষণের চেষ্টা (৯/৪): ধর্ষণের চেষ্টার শাস্তি অনধিক ১০ বছর কিন্তু অন্যূন ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড।[5 ]
৩. মামলা করার পদ্ধতি
৪. তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া (সাম্প্রতিক পরিবর্তনসহ)
তদন্তের সময়সীমা: সাধারণত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হয়।বিচারের সময়সীমা (ধারা ২০): ট্রাইব্যুনালকে মামলা প্রাপ্তির১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক ২০২৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী, চার্জ গঠনের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।[4 ]ডিএনএ ও মেডিকেল রিপোর্ট: আগে ডিএনএ টেস্ট বাধ্যতামূলক থাকলেও, ২০২৫ সালের নতুন আইনি সংস্কার অনুযায়ী, আদালত চাইলে মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়াই দ্রুত বিচার কাজ পরিচালনা করতে পারেন।[8 ]ইন-ক্যামেরা ট্রায়াল: ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষায় ট্রাইব্যুনাল চাইলে রুদ্ধদ্বার কক্ষে (In-camera) বিচার করতে পারেন।
৫. ভুক্তভোগীর সুরক্ষা ও অধিকার[9 ]
পরিচয় গোপন রাখা (ধারা ১৪): সংবাদমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভুক্তভোগীর নাম, ছবি বা পরিচয় প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় (শাস্তি ২ বছর কারাদণ্ড)।ক্ষতিপূরণ: অপরাধীর কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থদণ্ড বা জরিমানার টাকা ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার বিধান রয়েছে।[5 ]নিরাপদ হেফাজত (ধারা ৩১): বিচার চলাকালীন ভুক্তভোগীর নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনাল তাকে নিরাপদ হেফাজতে (সেফ হোম) রাখার নির্দেশ দিতে পারেন।