সোমবার, ১৬ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** একের পর এক রেকর্ড ভাঙছেন ‘টক্সিক’ যশ – বক্স অফিসে দানবীয় প্রত্যাবর্তনের সংকেত! *** ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : জীবন, রাজনীতি ও সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাপ্রবাহ *** আ ন ম এহসানুল হক মিলন: জীবন, রাজনীতি ও কৃতিত্ব *** হানিয়া আমিরের বিয়ে কি হবে? *** মুখে গোলাপ নিয়ে নাচ! ক্যাটরিনার রাগ ভাঙাতে সালমানের সেই ‘পাগলামি’ আজও ভাইরাল *** বরফ গলে নদীতে মিশছে ব্যাকটেরিয়া, বিজ্ঞানীদের সতর্কবাণী *** শীতের আমেজে একদিনেই ঘুরে আসুন রামগড় চা বাগান *** একাধিক প্রেম করা কোনো অন্যায় নয়: স্বস্তিকা *** কাছের বন্ধুরাও নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে ছবি মুছে ফেলেন কেন? *** বিবাহবার্ষিকীর খবরকে ‘ভুয়া’ বললেন অভিনেতা তাহসান খান

আইনি পরামর্শ

বাংলাদেশে অপহরণ ও ধর্ষণ আইন ও মামলা করার পদ্ধতি

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩:২৫ অপরাহ্ন, ১৪ই মার্চ ২০২৬ | ১৪ই মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশে অপহরণ ও ধর্ষণ আইন ও মামলা করার পদ্ধতি
বাংলাদেশে অপহরণ ও ধর্ষণ আইন ও মামলা করার পদ্ধতি

হামিদুর রহমান বাপ্পা
লিগ্যাল রিসার্চ এসোসিয়েট

বে অব লিগ্যাল

যোগাযোগঃ 01511-228988

বাংলাদেশে অপহরণ ও ধর্ষণ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর বিচার প্রধানত 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০' (সংশোধিত ২০২০ ও ২০২৫) এবং 'দণ্ডবিধি ১৮৬০' এর অধীনে পরিচালিত হয়। নিচে এই সংক্রান্ত আইন, শাস্তি এবং মামলা পরিচালনার বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করা হলো:

১. অপহরণ (Kidnapping and Abduction)

আইনের দৃষ্টিতে অপহরণ ও আটক রাখা ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার অপরাধ।[1][2][3][4]

  • দণ্ডবিধি অনুযায়ী সংজ্ঞা (ধারা ৩৫৯-৩৬২):

    • কিডন্যাপিং: কোনো ব্যক্তিকে তার আইনগত অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বা বাংলাদেশ থেকে জোরপূর্বক বাইরে নিয়ে যাওয়া।

    • অ্যাবডাকশন (Abduction): বলপ্রয়োগ বা প্রলোভনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া।[1]

  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধান (ধারা ৭ ও ৮):

    • ধারা ৭ (নারী বা শিশু অপহরণ): কোনো নারী বা শিশুকে অপহরণের শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কমপক্ষে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।[5]

    • ধারা ৮ (মুক্তিপণ আদায়): মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কোনো নারী বা শিশুকে আটক রাখলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।[1][5]

২. ধর্ষণ (Rape)

বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞা এবং শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।[6]

  • সংজ্ঞা (ধারা ৯-এর ব্যাখ্যা): কোনো ব্যক্তি বিবাহবন্ধন ব্যতীত ১৬ বছরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সম্মতি ছাড়া, বা ভীতি প্রদর্শন করে সম্মতি আদায় করে, অথবা ১৬ বছরের কম বয়সের কোনো শিশুর সাথে সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌনসঙ্গম করলে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে।

  • শাস্তি (ধারা ৯):

    • সাধারণ ধর্ষণ (৯/১): শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড (২০২০ সালের সংশোধনী অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে)।[5]

    • ধর্ষণের ফলে মৃত্যু (৯/২): যদি ধর্ষণের কারণে ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটে, তবে অপরাধীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অনধিক ২০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড।[1][5]

    • দলবদ্ধ ধর্ষণ (৯/৩): একাধিক ব্যক্তি মিলে ধর্ষণ করলে এবং তাতে ভুক্তভোগীর মৃত্যু বা জখম হলে, দলের প্রত্যেকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড।[1][5][7]

    • ধর্ষণের চেষ্টা (৯/৪): ধর্ষণের চেষ্টার শাস্তি অনধিক ১০ বছর কিন্তু অন্যূন ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড।[5]

৩. মামলা করার পদ্ধতি

ভুক্তভোগী বা তার পরিবার দুটি উপায়ে মামলা করতে পারেন:
১.[2] থানায় (FIR): নিকটস্থ থানায় গিয়ে এজাহার দায়ের করা। থানা মামলা নিতে অস্বীকার করলে সরাসরি আদালতে যাওয়া যায়।
২. আদালতে (সিআর মামলা): জেলা সদরে অবস্থিত 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে' আইনজীবীর মাধ্যমে সরাসরি নালিশি মামলা করা যায়।

৪. তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া (সাম্প্রতিক পরিবর্তনসহ)

  • তদন্তের সময়সীমা: সাধারণত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হয়।

  • বিচারের সময়সীমা (ধারা ২০): ট্রাইব্যুনালকে মামলা প্রাপ্তির ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক ২০২৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী, চার্জ গঠনের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।[4]

  • ডিএনএ ও মেডিকেল রিপোর্ট: আগে ডিএনএ টেস্ট বাধ্যতামূলক থাকলেও, ২০২৫ সালের নতুন আইনি সংস্কার অনুযায়ী, আদালত চাইলে মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়াই দ্রুত বিচার কাজ পরিচালনা করতে পারেন।[8]

  • ইন-ক্যামেরা ট্রায়াল: ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষায় ট্রাইব্যুনাল চাইলে রুদ্ধদ্বার কক্ষে (In-camera) বিচার করতে পারেন।

৫. ভুক্তভোগীর সুরক্ষা ও অধিকার[9]

  • পরিচয় গোপন রাখা (ধারা ১৪): সংবাদমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভুক্তভোগীর নাম, ছবি বা পরিচয় প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় (শাস্তি ২ বছর কারাদণ্ড)।

  • ক্ষতিপূরণ: অপরাধীর কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থদণ্ড বা জরিমানার টাকা ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার বিধান রয়েছে।[5]

  • নিরাপদ হেফাজত (ধারা ৩১): বিচার চলাকালীন ভুক্তভোগীর নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনাল তাকে নিরাপদ হেফাজতে (সেফ হোম) রাখার নির্দেশ দিতে পারেন।

আইনি পরামর্শ:

১. ঘটনার দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা করা এবং মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।
২. ভুক্তভোগীর পরিধেয় বস্ত্র বা প্রমাণাদি নষ্ট না করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
৩. মামলা করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার মিথ্যা তথ্য দিলে সেটিও শাস্তিমূলক অপরাধ (ধারা ১৭) হিসেবে গণ্য হতে পারে।

সতর্কীকরণ: এটি একটি সাধারণ আইনি প্রতিবেদন। সুনির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

ট্যাগস:
শেয়ার করুন: