শুক্রবার, ৬ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** একের পর এক রেকর্ড ভাঙছেন ‘টক্সিক’ যশ – বক্স অফিসে দানবীয় প্রত্যাবর্তনের সংকেত! *** ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : জীবন, রাজনীতি ও সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাপ্রবাহ *** আ ন ম এহসানুল হক মিলন: জীবন, রাজনীতি ও কৃতিত্ব *** হানিয়া আমিরের বিয়ে কি হবে? *** মুখে গোলাপ নিয়ে নাচ! ক্যাটরিনার রাগ ভাঙাতে সালমানের সেই ‘পাগলামি’ আজও ভাইরাল *** বরফ গলে নদীতে মিশছে ব্যাকটেরিয়া, বিজ্ঞানীদের সতর্কবাণী *** শীতের আমেজে একদিনেই ঘুরে আসুন রামগড় চা বাগান *** একাধিক প্রেম করা কোনো অন্যায় নয়: স্বস্তিকা *** কাছের বন্ধুরাও নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে ছবি মুছে ফেলেন কেন? *** বিবাহবার্ষিকীর খবরকে ‘ভুয়া’ বললেন অভিনেতা তাহসান খান

ক্রিপ্টোকারেন্সি কি হালাল নাকি হারাম? ইসলামি শরিয়াহ ও স্কলারদের মতামত ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্রিপ্টোকারেন্সি কি হালাল নাকি হারাম? ইসলামি শরিয়াহ ও স্কলারদের মতামত ২০২৬
ক্রিপ্টোকারেন্সি কি হালাল নাকি হারাম? ইসলামি শরিয়াহ ও স্কলারদের মতামত ২০২৬

ক্রিপ্টোকারেন্সি কি হালাল নাকি হারাম? ইসলামি শরিয়াহ ও স্কলারদের মতামত ২০২৬

ডিজিটাল দুনিয়ায় ক্রিপ্টোকারেন্সির জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে মুসলিম বিনিয়োগকারীদের মনে একটি বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—"ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা কি ইসলামে বৈধ বা হালাল?" এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো একক ফতোয়া না থাকলেও, স্কলাররা বিষয়টিকে কয়েকটি মানদণ্ডে বিচার করেন।

কেন অনেক স্কলার একে 'হারাম' মনে করেন?

অধিকাংশ প্রথাগত স্কলার ক্রিপ্টোকারেন্সিকে হারাম বা অবৈধ বলার পেছনে কয়েকটি মূল কারণ উল্লেখ করেছেন:

  • অত্যধিক অনিশ্চয়তা (Gharar): ক্রিপ্টো বাজারের দাম অত্যন্ত অস্থির। আজ যেটির দাম আকাশচুম্বী, কাল তা শূন্য হতে পারে। এই অনিশ্চয়তাকে ইসলামি শরিয়াহ 'গারার' হিসেবে গণ্য করে।

  • জুয়া বা বাজি ধরার প্রবণতা (Maisir): অনেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে কেবল দ্রুত বড়লোক হওয়ার মাধ্যম বা জুয়া হিসেবে ব্যবহার করেন, যা ইসলামে নিষিদ্ধ।

  • intrinsic Value বা অন্তর্নিহিত মূল্যের অভাব: স্বর্ণ বা রূপার মতো এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই, যা অনেক স্কলারের মতে মুদ্রার মানদণ্ডে পড়ে না।

  • কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের অভাব: কোনো সরকার বা ব্যাংক এর গ্যারান্টি দেয় না, যা জালিয়াতি ও ধোঁকা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ায়।

কেন কিছু স্কলার একে 'হালাল' বা 'বৈধ' মনে করেন?

আধুনিক অনেক ইসলামি অর্থনীতিবিদ ও স্কলার কিছু নির্দিষ্ট শর্তে একে বৈধ বলেছেন:

  • সম্পদ (Mal) হিসেবে স্বীকৃতি: যদি কোনো ডিজিটাল টোকেনের বাস্তব ব্যবহার (Utility) থাকে এবং সমাজ একে সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করে, তবে তা 'মাল' হিসেবে গণ্য হতে পারে।

  • স্বচ্ছতা ও ব্লকচেইন: ব্লকচেইন প্রযুক্তি লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে, যা ধোঁকা (Fraud) কমায়।

  • মুদ্রার বিবর্তন: একসময় কাগজের নোটকেও অনেকে হারাম বলেছিলেন, কিন্তু পরে তা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রিপ্টোকেও ডিজিটাল যুগের নতুন মুদ্রা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

সিদ্ধান্ত কী?

বিশ্বের বড় বড় ফতোয়া বোর্ড (যেমন- মিশরের দারুল ইফতা বা তুরস্কের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ) একে হারাম বললেও, অনেক আধুনিক স্কলার মনে করেন যদি এটি কোনো অবৈধ কাজে ব্যবহার না হয় এবং এতে জুয়ার উপাদান না থাকে, তবে তা বিনিয়োগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে ফিউচার ট্রেডিং (Future Trading) এবং সুদভিত্তিক লেনদেন (Staking/Lending) সরাসরি হারাম বলে গণ্য।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ধর্মীয় বিষয়ে যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আপনার বিশ্বস্ত কোনো আলেম বা মুফতির সাথে সরাসরি পরামর্শ করা সবচেয়ে নিরাপদ। বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি বর্তমানে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ, তাই শরিয়াহর পাশাপাশি দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি।

ট্যাগস:
শেয়ার করুন: