রবিবার, ১৮ই জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিতির পেলে বেকারত্ব দূর করেছেন রাজবাড়ীর যুবক রুবেল

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, ১২ই জানুয়ারী ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

বেকারত্ব দূর ও কর্মস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বর্তমানে নতুন নতুন উদ্যোক্তা ও খামারির উদ্ভব ঘটেছে। শ্রম ও ঘাম দিয়ে সফল হচ্ছেন অনেকেই। তেমনই একজন যুবক রাজবাড়ীর সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের রাজু আহম্মেদ রুবেল।

বাড়ির আঙিনায় সাড়ে ৩ বছর আগে শখের বশে মাত্র ১৩টি তিতির পাখি দিয়ে শুরু করেন। এখন খামারে আছে ছোট-বড় প্রায় ৯০০ তিতির। অল্প খরচ ও কষ্টে তিতির পাখি পালন লাভজনক হওয়ায় তিনি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে লালন-পালন শুরু করেছেন। নিজের খামারের ডিম দিয়েই মেশিনের সাহায্যে প্রতি মাসে উৎপাদন করছেন প্রায় ৩ হাজার বাচ্চা। যা মুহূর্তের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী পারছেন না সরবরাহ করতে।

খামারের খরচ বাদ দিয়ে এখন প্রতি মাসে আয় প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকা। তার সফলতা দেখে আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানের অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন তিতির পালনে। তিতির পাখির মাংস সুস্বাদু হওয়ায় বেশ চাহিদা আছে। তবে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণ পেলে তিতির পাখি পালন করে বেকারত্ব দূরসহ স্বাবলম্বী হবেন রুবেলের মতো তরুণ খামারিরা।

শখের বশে ২০২১ সালের মাঝামাঝি তিতির পাখি লালন-পালন শুরু করেন রাজু আহম্মেদ রুবেল। এখন তার খামারের ৪টি শেডে আলাদা আলাদা স্থানে ছোট-বড় ৯০০ তিতির পাখি আছে। যার মধ্যে প্রায় ৪০০-৫০০ আছে ডিম দেওয়া পাখি। ডিম থেকে তিনি মেশিনের সাহায্যে প্রতি মাসে উৎপাদন করছেন প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার বাচ্চা।

তিতির পাখি দেখতে অনেকটাই মুরগির মতো। এটি ছেড়ে দিয়ে বা খামারে পালন করা যায়। মুরগির মতোই দানাদার খাবার খাওয়ানো হয়। ফলে পালাক্রমে বাড়ির সবাই মিলে খামার পরিচর্যা করেন। ডিম দেওয়া এক জোড়া পাখির দাম ৩ হাজার, ১ মাসের বাচ্চা প্রতি পিস ২০০ ও সদ্য ভূমিষ্ট বাচ্চা ৯০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি মাসে খামার পরিচর্যায় সব মিলিয়ে ৮০-৯০ হাজার টাকা খরচ হয়। আয় হয় প্রায় ১ লাখ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

স্থানীয় মিরাজুল ইসলাম এবং পরান শেখ বলেন, ‘তিতির পাখির খামার ও সফলতা দেখে আশপাশের অনেকেই খামার থেকে বাচ্চা নিয়ে ছোট পরিসরে লালন-পালন শুরু করেছেন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন বাচ্চা ও বড় তিতির নিতে। এ পাখি পালনে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেলে বেকার যুবকসহ তরুণ উদ্যোক্তরা উপকৃত হবেন।’

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় আলুর বাম্পার ফলন হলেও লাভ যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পেটে

সফল খামারি রুবেল বলেন, ‘এ পাখি পালন খুবই লাভজনক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক ভালো।’

এসি/ আই.কে.জে/

তিতির পালন