বাংলাদেশে চেক ডিজঅনারের মামলা সাধারণত
১. মামলা করার পূর্বশর্ত ও সময়সীমা (খুবই গুরুত্বপূর্ণ)
ধাপ-১ (চেক জমা দেওয়া): চেকটিতে উল্লেখিত তারিখের৬ মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে।ধাপ-২ (ডিজঅনার স্লিপ সংগ্রহ): ব্যাংক যদি জানায় যে অ্যাকাউন্টে টাকা নেই (Insufficient Funds) বা অন্য কোনো কারণে টাকা দেওয়া সম্ভব নয়, তবে ব্যাংক একটি মেমো বা‘ডিজঅনার স্লিপ’ (Dishonor Slip) দেবে। এটি অবশ্যই সংগ্রহ করতে হবে।ধাপ-৩ (লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ): চেকটি ব্যাংক থেকে ফেরত আসার (ডিজঅনার হওয়ার) তারিখ থেকে৩০ দিনের মধ্যে চেকের দাতাকে (আসামিকে) একটি আইনি নোটিশ বালিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে হবে।নোটিশটি আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে (AD সহ) পাঠানোই উত্তম। নোটিশে টাকা পরিশোধের জন্য চেক দাতাকে ৩০ দিন সময় দিতে হবে।
ধাপ-৪ (মামলা দায়ের): নোটিশে উল্লেখিত ৩০ দিন সময় পার হওয়ার পরেও যদি টাকা পরিশোধ না করে, তবে পরবর্তী৩০ দিনের মধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
২. কোথায় এবং কীভাবে মামলা করবেন?
আদালত: চেকটি যে ব্যাংকের শাখায় উপস্থাপন করা হয়েছিল সেটি যে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত অথবা বাদীর বসবাসের বা ব্যবসার স্থানের এখতিয়ারভুক্ত আমলি আদালতে (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট) মামলাটি করতে হয়।প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: ১. মূল চেক। ২. ব্যাংক থেকে দেওয়া ডিজঅনার স্লিপ। ৩. লিগ্যাল নোটিশের কপি। ৪. পোস্টাল রিসিট এবং প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (AD Card) অথবা ফেরত আসার খাম। ৫. জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি। ৬. মামলার আরজি (আইনজীবী প্রস্তুত করবেন)।
৩. মামলার বিচার প্রক্রিয়া
৪. শাস্তি (১৩৮ ধারা অনুযায়ী)
সর্বোচ্চ ১ (এক) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড; অথবাচেকে উল্লেখিত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানা; অথবাউভয় দণ্ড (কারাদণ্ড ও জরিমানা)।
৫. আপিল প্রক্রিয়া
আদালত যে জরিমানা বা টাকার রায় দিয়েছেন, তার ৫০% (অর্ধেক) টাকা আদালতে জমা দিয়ে আপিল করতে হবে।
৬. আপস-মীমাংসা
কিছু জরুরি পরামর্শ:
লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর তারিখ এবং মামলা করার তারিখের সময়সীমা (Limitation) খুব সাবধানে হিসাব করতে হয়। একদিন দেরি হলেও মামলা বাতিল হয়ে যেতে পারে। চেক হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে সাথে সাথে জিডি (GD) করা উচিত এবং ব্যাংকে ‘স্টপ পেমেন্ট’ অর্ডার দেওয়া উচিত। এই মামলা পরিচালনার জন্য একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।