আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা! স্বাগতম আমাদের আজকের ভিডিওতে। আজ আমরা আলোচনা করব ইসলামের এক অনন্য চরিত্রের জীবন ও কীর্তির ওপর—হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। যিনি শুধু ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিনই ছিলেন না, বরং সাহস, ধৈর্য ও ঈমানের এক অসাধারণ প্রতীক। চলুন, শুরু করি তাঁর জীবনের গল্প।
হযরত বেলাল (রাঃ)-এর পূর্ণ নাম বেলাল ইবনু রাবাহ। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন মক্কায়, এক দাস পরিবারের সন্তান হিসেবে। শুরুতেই তাঁর জীবন ছিল কঠিন, কিন্তু আল্লাহর পথে অটল বিশ্বাসই তাঁকে শক্তি যুগিয়েছে। ইসলামে আকৃষ্ট হওয়ার পর তাঁর মালিক উমাইয়্যা ইবন খালফ তাঁকে জঘন্য অত্যাচার করত। তাঁকে মরুভূমির জ্বলন্ত বালুর ওপর ফেলে রাখত, বুকের ওপর ভারী পাথর চাপাত, তবুও তিনি স্থির থাকতেন এবং মুখে ধ্বনিত হতো “আহাদ, আহাদ”—অর্থাৎ, “এক আল্লাহ, এক আল্লাহ।”
এই দৃঢ় ঈমান ও সাহস দেখে নবী করিম ﷺ অত্যন্ত খুশি হতেন। ইসলাম বিজয়ের পর মক্কা বিজয়ের দিন, নবীজি ﷺ হযরত বেলালকে কাবা শরিফের ছাদে দাঁড় করিয়ে প্রথম আজান দিতে বলেন। তাঁর আজানের ধ্বনি পুরো মক্কা জুড়ে ঈমানের আলো ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে নবীজির ইন্তেকালের পর তিনি আর আজান দিতে পারেননি, কারণ কণ্ঠে কান্না এসে ভেসে যেত। জীবনের শেষভাগে তিনি সিরিয়ায় চলে যান এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
হযরত বেলাল (রাঃ)-এর জীবন আমাদের শেখায়—ঈমানের প্রতি অটল থাকা, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং আল্লাহর জন্য সমস্ত কষ্ট সহ্য করার সাহস কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ছিলেন দাস, কিন্তু আল্লাহর দৃষ্টিতে ছিলেন মর্যাদাবান ও সম্মানিত।
বন্ধুরা, হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু শুধু ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিনই নন, তিনি ছিলেন ঈমানের এক অমর প্রতীক। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসই মানুষের প্রকৃত শক্তি এবং মুক্তি এনে দেয়। আসুন, আমরা তাঁর এই শিক্ষা আমাদের জীবনে অনুসরণ করি।